নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লীতে নিলাম খরিদা সদরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে নির্মিত দোকানকে বৈধতা দিতে মাঠের মাঝে পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে স্কুলের সভাপতিসহ স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা বলছেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলামের সহায়তায় দোকানপাট নির্মাণসহ মাঠের মাঝ দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করে স্কুলের জায়গা ধীরে ধীরে দখলে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি চক্র। করোনাকালীন স্কুল বন্ধ থাকায় এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে দখলবাজরা।
দোকান ঘর নির্মাণের কারণে বিদ্যালয়টির মাঠ সংকীর্ণ হয়ে গেছে, তার ওপর ফের মাঠের মাঝ দিয়ে রাস্তা তৈরির ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করতে সমস্যায় পড়তে হবে। এ সব কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ সচেতন সুশিল সমাজ।
এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগেও নেই প্রতিকার। এ-কী দশা স্কুল মাঠে! এতে সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলেও তাদের অভিযোগ। এ সংক্রান্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও গত ২১ জুন ২০২১ তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন এলাকাবাসী ডকেট নং ৪১।
স্থানীয়রা জানায়, ১৯৭২ সালে ১ একর জমির ওপর তৈরি পুরানো এ বিদ্যালয়ের সামনে মনোরম পরিবেশে সুন্দর খেলার মাঠ রয়েছে। মাঠের দক্ষিণ পাশে স্থানীয়দের যাতায়াতে সড়কও আছে। সে সড়কের পাশেই স্কুলের জায়গায় কতিপয় প্রভাবশালী খেলার মাঠ দখলে নিয়ে দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় বিঘ্ন ঘটছে। এবার মাঠের মাঝ দিয়ে নতুন করে পাকা রাস্তা নির্মাণ করছে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম।
তাদের দাবী, শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ দখল করে দোকান ঘর তৈরি করায় স্কুলের মাঠ বিনষ্ট হচ্ছে। এতে শিশুদের বিনোদনে বিঘ্ন ঘটবে। স্কুলের সামনে দোকান ঘর এবং পাকা রাস্তার ফলে প্রতিনিয়ত শিশু শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়বে।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সংযোগ সড়ক তৈরি করা হচ্ছে।
টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি জানান, স্কুলের জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা অন্যায়। কিন্তু যিনি ওই রাস্তার কাজ করছেন তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি। তিনি নিজেই বাধা দেয়ার কথা। কিন্তু তিনি সেটা না করে রাস্তা নির্মাণ করছেন। অভিযোগ পেলে আমরা কাজ বন্ধ করে দিবো।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ সরকার জানান, প্রধান শিক্ষকের নিকট স্কুলের মাঠে রাস্তা নির্মাণের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে দোকান ঘর গুলো উচ্ছেদ করা হবে।
-এমআর

No comments:
Post a Comment