নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রংপুরের কাউনিয়ায় আখ চাষিদের এখন সুদিন চলছে। চাহিদার চেয়ে আখের উৎপাদন কম হওয়ায় আগের চেয়ে দামও বেশি। ফলে আখ চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলায় এবার ১২ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল গেন্ডারি উফশি কালো বোম্ব ও স্থানীয় জাতের আখ চাষ করা হয়েছে।
তিস্তা নদী বেষ্টিত চরবিশ্বনাথ, আজমখাঁ, চরগনাই, গদাই, চরঢুষমাড়া, গোপিডাঙ্গা, উত্তর হরিশ্বর, আরাজি হরিশ্বর, চরনাজিরদহ, প্রাণনাথচর, চরচতুরা, ধুমগাড়াসহ উপজেলার ২৯টি চরে অন্য ফসলের পাশাপাশি চিবিয়ে খাওয়া আখের প্রচুর চাহিদা ও অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় আখ চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে।
গোপিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক ওসমান আলী চলতি মওসূমে ৭১ শতাংশ জমিতে হলুদ বর্ণের গেন্ডারি আখ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকার মতো। আখ চারা রোপণ করেই সাথী ফসল হিসেবে কাঁচামরিচ আবাদ করে এ ব্যয় অনেকটা পুশিয়ে নিয়েছেন। আখ বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। এতে তার ১ লাখ টাকার ওপরে আয় হবে বলে আশা করেন।
উত্তর হরিশ্বর এলাকার আখ চাষি মিন্টু খাঁ জানান, বর্তমানে আখ ক্ষেত থেকে ১শ’ গেন্ডারি এগারশ’ থেকে বারশ’ টাকা আর দেশী জাতের আখ সাড়ে ছয়শ’ থেকে সাতশ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আখ বছরে একবার ফলন হলেও বিক্রি করে একসাথে মোটা অংকের টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া আখ গাছের পাতা গো-খাদ্য ও জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হয়। আখে চাষিদের সুদিন ফিরেছে।
তবে কৃষকরা সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, চাষাবাদে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষন, উন্নত বীজ ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, সংরক্ষণাগার ও বিপণন ব্যবস্থা চালু না থাকায় কাঙ্খিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দাবী চাষিদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন সাথী বলেন, চরাঞ্চলের পলিযুক্ত উর্ব্বর মাটিতে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবারও আখের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের মাঝে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আখে উচ্চমূল্য পাচ্ছেন চাষিরা। আখ চাষে উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
-এমআর

No comments:
Post a Comment