নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রংপুরের কাউনিয়ায় টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ আগষ্ট) রাত থেকে পরদিন বিকেলে তিস্তার পানি প্রবল বেগে বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তা রেল সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা, চর ঢুষমারা, চর গদাই, পাঞ্জরভাঙ্গা, পূর্ব নিজপাড়া, তালুক সাহবাজ, টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণশর্মা, চর গনাই, চর আজমখাঁ, হয়বৎখাঁ, বিশ্বনাথ এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে পানি বন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৫শ’ পরিবার।
এরমধ্যে ঢুষমারার চরে পানি বন্দী প্রায় ৩শ’ পরিবার। গ্রাম গুলোর মানুষ উচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তারা গবাদিপশু নিয়ে পড়েছে বিপাকে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির সাথে নদী ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে। সেই সাথে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আমন বীজতলা, আমন ধান ক্ষেত ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
ঢুষমারা চরের নজরুল ইসলাম বলেন, সবাই তাদের নিয়ে ভোটের রাজনীতি করে কিন্তু তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা কেউ ভাবেন না। কোব্বাত জানান, আমাদের চরে একমাত্র স্কুল মাঠে পানি, আশ্রয় নেওয়ার কোন জায়গা নেই। পানিতে ডুবলে সামান্য ত্রাণ নিয়ে আসেন নেতারা এরপর আর তাদের দেখা মেলেনা। নদী ভাঙ্গন রোধে নেই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।
কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন জানান, নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ১০ হেক্টর আমন ধান ক্ষেত পুরো তলিয়ে গেছে এবং ১৫ হেক্টর অর্ধেক তলিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান হাবীব সরকার জানান, বন্যা পরিস্থিতি আমরা খোঁজখবর রাখছি। আমাদের সকল প্রকার প্রস্তুতি নেওয়া আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা তারিন নদীর পানি বৃদ্ধির কথা নিশ্চিত করে জানান, চেয়ারম্যান সাহেবদের বলেছি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করে জমা দিতে। বন্যা ও দৃর্যোগ মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি আছে বলেও তিনি জানান। বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন, প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা ইউএনও’র দপ্তরে পাঠানো হবে।
-এমআর
No comments:
Post a Comment