নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় আবু সিদ্দিক (৩৫) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার গলা কেটে এবং ঘাড় ও মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ নির্জন রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার ৮নং চরচতুরা গ্রামের একটি নির্জন রাস্তা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবু সিদ্দিক উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের পল্লিমারী হকের বাজার এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর আবু সিদ্দিক নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মিলন বাজার এলাকায় যান। মিলন বাজারের পাশেই কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার শেষ সীমানা চরচতুরা গ্রাম।
রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্বজনরা খবর পান, চরচতুরা গ্রামের একটি নির্জন রাস্তায় সিদ্দিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা তার গলা কেটে এবং ঘাড় ও মুখে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ রাস্তার ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে হারাগাছ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে হারাগাছ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য ওবায়দুর রহমান এবাদ জানান, সন্ধ্যার পর সিদ্দিক বাড়ি থেকে বের হয়ে মিলন বাজার এলাকায় যান। পরে রাতে চরচতুরা গ্রামের নির্জন রাস্তায় তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়।
নিহতের চাচাতো ভাই মজমুল বলেন, মিলন বাজার এলাকায় গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার আগে মাঠের মধ্যে বসে মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে সিদ্দিকের বাকবিতণ্ডা হয়। এর কিছু সময় পর কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে নির্জন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। তবে কার সঙ্গে বা কী কারণে ওই বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, খবর পেয়ে তিনি পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে এবং ঘাড় ও মুখে কুপিয়ে তাকে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে ঘটনার সময় সিদ্দিক কার সঙ্গে ছিলেন এবং কারা তাকে নির্জন এলাকায় ডেকে বা নিয়ে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এমআর

No comments:
Post a Comment